স্পোর্টস ডেস্ক : আবার একটি সেমিফাইনাল। আবারও শেষ চারে থামল ইংল্যান্ড। সেই অতীতের পুনরাবৃত্তি। যা মেনে নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয় হ্যারি কেনের। সরাসরি না বললেও, দায় কোচের ওপরই চাপান। বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচের পর গভীর হতাশা প্রকাশ করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। জানান, দল, স্টাফ এবং সমর্থকদের জন্যই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আমরা ভাল খেলেছি। কিন্তু ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা যেন শুধু লিড ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। এই পর্যায়ে সেটা যথেষ্ট নয়। এখানে পৌঁছতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি। দলের প্রত্যেক ফুটবলার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জল দিয়ে লড়াই করেছে। এভাবে হেরে যাওয়া সত্যিই খুব কষ্টের। এই টুর্নামেন্টে আমাদের অনেক ভাল মুহূর্ত ছিল। অনেক ভাল ম্যাচ খেলেছি। আবারও সেমিফাইনালে উঠেছি। আমরা বারবার বলি, আমরা দরজায় কড়া নাড়ছি। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। এখন শেষ ধাপে সাফল্য পেতে সেই মিসিং পিসটা খুঁজে বের করতে হবে।
তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে গিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনে ইংল্যান্ড। একেবারেই ব্যর্থ কোচ টমাস তুচেলের স্ট্র্যাটেজি। ম্যাচে প্লেয়ার পরিবর্তন এবং পরিবর্তনের সময় নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রাক্তন কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের আমলে যে ভুলের কারণে ভুগতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে, সেই ভুলই আবার দেখা গেল তুচেলের সময়ে। তবে তুচেলের উপরে আস্থা হারাচ্ছে না ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্বকাপের আগেই তুচেলের চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আনছে না এফএ। তাঁদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও আগামী ইউরো পর্যন্ত দলের দায়িত্বে থাকবেন জার্মান কোচ। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ইংল্যান্ডের হেড কোচ। তুচেল বলেন, ‘আমার চুক্তি ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত রয়েছে। আমি সেই দায়িত্ব পালন করতেই চাই। এখন এই মুহূর্তে এত দূরের কথা ভাবা কঠিন। তবে ঘরের মাঠে হতে চলা ইউরোর জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চিফ এগজ়িকিউটিভ মার্ক বুলিংহ্যামও মুখ খোলেন এই নিয়ে। তবে তিনি ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বুলিংহ্যাম বলেন, ‘এত কাছে গিয়েও না পারাটা সত্যিই দুঃখজনক। ফুটবলাররা এবং টমাস তুচেল নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দল, কোচিং স্টাফ এবং সাপোর্ট স্টাফরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন।’