ওঙ্কার ডেস্ক: বর্তমানে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের ডিপফেক’এর শিকার হওয়া প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাঁদের ছবি-ভিডিও নিয়ে যেকোনও যৌনতা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তারকাদের। ঐশ্বর্য রাই বচ্চনও সেই তালিকার বাদ যায়নি। ভবিষ্যতে যাতে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হতে হয়, সেই কারণেই সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেত্রী। সংশ্লিষ্ট মামলায় এবার বড় জয় পেলেন তিনি।
ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের পক্ষে রায় দিয়ে দিল্লি উচ্চ আদালতের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে বিনা অনুমতিতে অভিনেত্রীর নাম-ছবি একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না। এতে অভিনেত্রীর ব্যক্তি অধিকার লঙ্ঘন হতে পারে কিংবা ভাবমূর্তিতে আঁচ আসতে পারে। মামলার শুনানিতে বিচারপতি তেজস কারিয়া কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, এআই-এর সাহায্যে তৈরি অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল করার অভিযোগ তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। এদিন সেকথা উল্লেখ করেই ঐশ্বর্যর নাম-ছবি ব্যবহারে বেশ কয়েকটি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টের তরফে।
অভিযোগ, ঐশ্বর্যর ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে কফি মগ, টি-শার্টের মতো নানা সামগ্রী। একই সঙ্গে নায়িকার নানা বিকৃত অন্তরঙ্গ ছবি এইআই দিয়ে তৈরি করে নেটপাড়ায় সর্বসম্মুখে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার এহেন অপব্যবহারে অভিনেত্রীদের শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, পাশাপাশি তাঁদের মান-মর্যাদাকেও কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে। যা কোনও ব্যক্তির সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারকেও প্রভাবিত করে। তাছাড়া বিনা অনুমতিতে কোনও বিজ্ঞাপনী ছবি-ভিডিওতে তারকামুখ ব্যবহার করা হলে ক্রেতারাও বিভ্রান্তির শিকার হন। অতঃপর ভবিষ্যতে কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের নাম কিংবা তাঁর সংক্ষিপ্তরূপ ‘এআরবি’ অথবা ছবি-ভিডিও কিছু ব্যবহার করতে পারবে না। আদালতের এই আদেশ যে কোনও মাধ্যমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেকস, ‘ফেস মর্ফিং’-সহ সকল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঐশ্বর্যর পক্ষে রায় দিয়ে সাফ নিষেধাজ্ঞা জারি করল দিল্লি হাই কোর্ট।
