ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জড়িওয়ালা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪২ বছর বয়সেই প্রাণ হারালেন তিনি। মডেল-অভিনেত্রীর আচমকা প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অভিনয় জগৎ। টেলিভিশন কিংবা সিনেমা নয়, শুধুমাত্র একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে রাতারাতি সাফল্য পেয়েছিলেন ১৯ বছরের তরুণী। ২০০২ সালে ডিজে ডলের মিউজিক ভিডিওতে ‘কাঁটা লাগা’ গানের রিমেকে পারফর্ম করে রাতারাতি সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন শেফালি। তখন থেকে তিনি ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিলেন। নয়ের দশকের সময় তাঁর লাস্যময়ী অভিব্যক্তিতে ঘায়েল হয়েছিলেন অনেকেই। সেই ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জারিওয়ালার জীবন মাত্র ৪২ বছর বয়সে থমকে গেল।
মুম্বইয়ের হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন শেফালি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর স্বামী। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা করা যায়নি। হাসপাতাল সুত্রে খবর, শেফালিকে আনার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। শেফালি প্রথম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সলমন খান এবং অক্ষয় কুমারের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে। কিন্তু তারপর আর বলিউডে তাঁকে নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে কাজ ছাড়া ২০১৯ সালে বিগ বস ১৩-এ অংশ নিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, কেরিয়ার মাঝপথে থাকাকালীন মাঝে মাঝেই তিনি উধাও হয়ে যেতেন।
একটি সাক্ষাৎকারে শেফালি নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর জীবনের কঠিন সংগ্রামের কথা। তিনি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে সেই কঠিন অসুখের সঙ্গে লড়াই চলছিল তাঁর। তিনি জানিয়েছিলেন, “পরীক্ষার সময় প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকতাম। সেই থেকে খিঁচুনি শুরু হয়। ১৫ বছর থেকে আমার মৃগী রোগ। ক্লাসরুমে, ব্যাকস্টেজে, রাস্তায় বা কোথাও হঠাৎ করে আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুভব করতাম।”
এই রোগের কারণেই ‘কাঁটা লাগা’র বিপুল সাফল্যের পরও বেশি কাজ করতে পারেননি শেফালি। কাজের মাঝে হঠাৎ খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি থাকত। যদিও পরে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। মৃত্যুর ঠিক দু’দিন আগেও একটি ফটোশুট করেছিলেন শেফালি। তারপর আচমকা কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। অভিনেত্রীর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউডে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে একের পর এক বলিপাড়ার তারকারা সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন।
