ওঙ্কার ডেস্ক: মেটা বা ফেসবুকের জন্য গঠিত ওভারসাইট বোর্ড পাঁচ বছরের কার্যপর্ব শেষে নিজেদের কাজের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেছে, পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর এই বোর্ডের দায়িত্ব ছিল ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে পোস্ট সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা, ব্যবহারকারীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া।
বোর্ড জানিয়েছে, তারা বহু বিষয়ে বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের জায়গায় প্রভাব বিস্তার সম্ভব হয়নি। কারণ, সংস্থার নীতি গ্রহণ বা সংশোধন সম্পূর্ণভাবে মেটার মতে হয়ে এসেছে। ফলে ব্যবহারকারীর সুরক্ষা, ভুয়ো তথ্য নিয়ন্ত্রণ কিংবা ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো দৃঢ় হয়নি। এছাড়া কিছু পর্যবেক্ষকও অভিযোগ তুলেছেন, বোর্ড থাকার পরও প্ল্যাটফর্মে বহু ক্ষেত্রে মডারেশনের মান কমেছে।
তবে শুধুই হতাশা নয়, বোর্ড ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে। পাঁচ বছরে বিভিন্ন সংবেদনশীল কনটেন্ট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা এসেছে, ব্যবহারকারীদের অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং বেশ কিছু ঘটনায় নিষিদ্ধ বা অপসারিত কনটেন্ট পুনর্বহাল হয়েছে। বিশেষত রাজনৈতিক কনটেন্ট, সহিংসতা উসকানি, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পোস্ট এবং ভুয়ো তথ্য নিয়ে বোর্ড বহু সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মেটার কিছু সিদ্ধান্ত বোর্ডের সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্ট-চেকিং বন্ধ করার পদক্ষেপকে বোর্ড তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ ভুয়ো খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতি বোর্ডের সীমাবদ্ধতাকেও স্পষ্ট করেছে। যেখানে তারা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারলেও নীতি বদলাতে বাধ্য করতে পারে না।
আগামী দিনে বোর্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কনটেন্ট এবং এআই ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের প্রভাব নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বিশেষত কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং এআই-এর অপব্যবহারকে তারা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। সামগ্রিকভাবে বোর্ড মনে করছে, সামাজিক মাধ্যম এখন শুধুই যোগাযোগ নয় এটি এক বৃহৎ জনপরিসর যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবাধিকারকে কেন্দ্রে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
