ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশকে একসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সংঘর্ষ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রচলিত যুদ্ধ দু’ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের সামনে এই দুই ধরনের চ্যালেঞ্জই সমানভাবে বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্যে উঠে আসে, সীমান্তে উত্তেজনা কিংবা সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি থেকে দ্রুত এবং সীমিত পরিসরের সামরিক সংঘর্ষ তৈরি হতে পারে, আবার দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সামরিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধ কেবল স্থল, জল বা আকাশপথে সীমাবদ্ধ নেই। ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে বহুমাত্রিক, যেখানে সাইবার জগৎ, মহাকাশ, তথ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি এই ধরনের যুদ্ধকে ‘কনভার্জেন্স ওয়ারফেয়ার’ বলে উল্লেখ করেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, হাইপারসনিক অস্ত্র, রোবোটিক্স এবং উন্নত প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহৃত হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক একটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে বিভিন্ন সামরিক শাখার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং বাহিনীগুলির পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে যে কোনও ধরনের সংঘর্ষে দেশ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে এই প্রস্তুতিই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে মনে করছেন জেনারেল চৌহান।
