ওঙ্কার ডেস্ক: গোয়ার আরপোরা এলাকায় রাতের পার্টি-কেন্দ্রর ব্রিচ বাই রমিও লেন নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে ওই ক্লাবে আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ক্লাবে প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আতঙ্ক, ধোঁয়া এবং হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকে বেরোতে না পেরে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মৃতদের মধ্যে ক্লাবকর্মী, পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষও রয়েছেন। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ক্লাব প্রশাসন ও মালিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। জানা যায়, ক্লাবের মালিক দিল্লিভিত্তিক দুই ভাই অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছেড়ে চলে যান। রাতের অন্ধকারেই তারা মুম্বাই থেকে বিমানে চেপে বিদেশে পাড়ি দেন। তাঁদের যাত্রা ছিল থাইল্যান্ডের ফুকেটের উদ্দেশে। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিস জারি করা হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিকভাবে তাঁদের অবস্থান খোঁজার চেষ্টা শুরু করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক অব্যবস্থার অভিযোগ। ক্লাবে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল না, বাইরের দরজা সংকীর্ণ এবং জরুরি প্রস্থান পথ ছিল অপ্রতুল। অভ্যন্তরে দাহ্য উপকরণ দিয়ে সাজানো ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। ঘটনাস্থলে দমকল পৌঁছতে সময় লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংকীর্ণ রাস্তা এবং যানবাহন চলাচলের সমস্যার ফলে দমকলকর্মীরা ভেতরে ঢুকতে দেরি করে।
আগুন লাগার পর ক্লাব থেকে যাঁরা বেরোতে পারেননি, তাঁদের অধিকাংশই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বা তাপের কারণে মারা যান বলে চিকিৎসকরা জানান। উদ্ধারকাজ তৎপরতার সঙ্গে শুরু হলেও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে ছড়িয়ে থাকা দগ্ধ সামগ্রী, ভাঙা কাঠামো এবং পোড়া গন্ধ এলাকাকে আতঙ্কিত করে রাখে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ক্লাবের লাইসেন্স, অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ক্লাবটি পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পর্যটনের চাপ এবং প্রভাবশালী মালিকানার কারণে বারবার অনুমতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন প্রশাসন এই বিষয়ে কড়া তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে আগুনে নিহতদের পরিবার ও পরিচিতরা শোকস্তব্ধ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত, তবে এত মানুষের মৃত্যু কি ঠেকানো যেত না? গোয়া সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য ক্লাব ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
