ওঙ্কার ডেস্ক: গোয়ার আরপোরা এলাকায় গভীর রাতে একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। নাইটক্লাবের রান্নাঘরের অংশে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। রাতের ব্যস্ত সময়ে ক্লাবে বহু কর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আচমকা আগুনে অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। অগ্নিকাণ্ডের স্থানে উদ্ধারকারী দল পৌঁছোতেই একাধিক দেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ধোঁয়ার ঘন আস্তরণ এবং আগুনের তাপের কারণে উদ্ধারকাজও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাইটক্লাবের রান্নাঘর থেকে আগুন লেগে প্রথমে নিচতলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়, পরে তা বাকি ফ্লোর এবং শীর্ষতলায় ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরের কাঠের সাজসজ্জা এবং দাহ্য উপাদান আগুন আরও বাড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় মানুষ জেগে ওঠেন। কয়েকজন প্রতিবেশী এবং পর্যটক নিয়েই উদ্ধারকারীরা প্রথম পর্যায়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। অনেকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের মৃত্যু হয়। আহতদের একজন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধোঁয়ায় সবকিছু ঢেকে যায়, আলো নিভে যায়, কেউ কিছু বুঝতে পারেনি।
এদিকে দমকল বাহিনী রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অনেক দেহ পোড়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শনাক্ত করতে সময় লাগছে। ক্লাবের ভেতরে জরুরি বহির্গমন পথ থাকলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। কেউ কেউ বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যান আবার অনেকে ধোঁয়ায় জ্ঞান হারান। বহু কর্মী ও মহিলা কর্মীদের দেহ রান্নাঘরের সংলগ্ন এলাকা এবং স্টোররুম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, রান্নাঘর অংশে গ্যাস লিক হওয়ার পরই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার অডিট এবং সিলিন্ডারের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়ার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে এমন দুর্ঘটনা আতঙ্ক তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন নিয়মিত পরিদর্শন বা নিরাপত্তা মানলে কি এই বিপর্যয় ঠেকানো যেত?
নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই নাইটক্লাব সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরণের বাণিজ্যিক স্থানের নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর করা হবে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গোয়ার বহু রাতের বিনোদনস্থল নিয়মিত আগুন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অডিটের আওতায় আনা জরুরি।
