ওঙ্কার ডেস্ক: পাসপোর্ট নাগরিকত্বের নথি নয় বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। যে মন্তব্যের পর গোটা দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থানের স্পক্ষে সাফাই দিল কেন্দ্রীয় সরকার। মোদী সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই অবস্থান নতুন নয়, বা এটি সম্প্রতি নেওয়া হয়নি। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়—এই সিদ্ধান্ত গতকাল নেওয়া হয়নি। এমনকি গত ১২ বছরেও এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, এই আইনি অবস্থান বহু দশক ধরেই রয়েছে।
‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি। এটিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। এই মন্তব্যের পর বিরোধীরা সমালোচনা শুরু করেন। সমাজ মাধ্যমেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম হয়। বিদ্যমান আইন ও আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পাসপোর্টকে কখনই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে এক আধিকারিক বলেন, ‘পাসপোর্ট কখনই নাগরিকত্বের প্রমাণ ছিল না। ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনে বলা হয়েছে যে, অ-নাগরিকদেরও পাসপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। ২০১৩ সালের বম্বে হাইকোর্টের রায়েও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।’ রিপোর্ট অনুসারে, বিদেশ মন্ত্রক ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর ধারার কথাও উল্লেখ করেছে। এই ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অ-নাগরিকদের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদি সরকার মনে করে।
উল্লেখ্য, ভারতে এমন কোনও একক নথি নেই যা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল আধার, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড বা জন্ম শংসাপত্রের মতো নথিগুলো নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ কিনা। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দিষ্ট কোনও নথিকেই সেভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো ‘নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫’ এবং এর আওতায় থাকা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।