ওঙ্কার ডেস্ক: পুলিশের সঙ্গে সংঘাত সেনা বাহিনীর বেশ কিছু জওয়ানের। জম্মুকাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার আথোলি থানায় হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর কমান্ডিং অফিসার, একজন মেজর, একজন নায়েব সুবেদার এবং ৩০ থেকে ৪০ জন জওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, বুধবার ওই সেনা জওয়ানরা পুলিশ আধিকারিকদের ওপর হামলা চালান, সেই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেন।
রিপোর্ট অনুসারে, জম্মু থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরে কিশতওয়ার জেলা সদর দফতর। সেখান থেকে ৪২ কিলোমিটার পূর্বে পাদ্দার উপত্যকায় অবস্থিত আথোলি এলাকা। এখানেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে এক নজিরবিহীন সংঘাত দেখা গেল। এফআইআর-এ যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে, সিপাই (জেনারেল ডিউটি) রাজ কুমার এবং সিপাই রাহুল কুমার, অনুপ সিং ও ওঙ্কার ইংলে। এছাড়াও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় জওয়ানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেন এই সংঘাত? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, বুধবার দুপুরের দিকে এই ঝামেলার সূচনা হয়। কিস্তওয়ার জেলার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) পঙ্কজ শর্মার গাড়ি বহরটি ‘ব্লক দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে একটি সরু রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় উলটো দিক থেকে এক সেনা জওয়ানের গাড়ি আসে। সরু রাস্তায় দুটি গাড়ি মুখোমুখি হলে ডিসি-র নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ কর্মীরা ওই জওয়ানকে গাড়িটি একপাশে সরিয়ে পুলিশ কর্তার গাড়ি বহরটিকে যাওয়ার পথ করে দিতে বলেন। তখনই তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এরপর পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে আথোলি থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই জওয়ান ইউনিফর্ম পরে ছিলেন না। তাঁর নাম, পদবি ও ইউনিটের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও, পুলিশের দাবি, তিনি ‘১১ আরআর’-এর সদস্য। সেনার উর্ধতন কর্তাদের ফোন পাওয়ার পর পুলিশ গাড়িটি ছেড়ে দেয়।
এফআইআর-এ বলা হয়েছে, ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর কিজায়িতে অবস্থিত ১৭ আরআর ক্যাম্প থেকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে, ৩০ থেকে ৪০ জন জওয়ান লোহার রড, লাঠি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে থানায় প্রবেশ করে। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর তারা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। জওয়ানরা স্পেশাল পুলিশ অফিসার সুরেশ কুমারকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে বলেও অভিযোগ। এর ফলে ওই পুলিশ আধিকারিক গুরুতর জখম হন।