ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ত্রিপুরার এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় গোটা অসম। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মণিপুরের পাঁচ জন নাবালক ছাত্রের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে দুইজনকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার গুয়াহাটির পানিখাইটি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে পার্টির আয়োজন হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই ২১ বছরের তরুণীও। অভিযোগ, পার্টি শেষে রাত কাটান তিনি সেই বাড়িতেই। পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখা যায়, তাঁকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এরপরেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা।
পানিখাইটি পুলিশ আউটপোস্টে দায়ের হওয়া এফআইআরে পাঁচ ছাত্রের নাম রয়েছে। এদের বয়স আনুমানিক ১৭ বছর। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭০(১) ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর ন্যায় আইনেও পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে এলে তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার খবর ছড়াতেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। অভিযোগে নাম থাকা ওই ছাত্রদের আপাতত বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শৃঙ্খলারক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য তথা টিপরা মথার নেতা প্রদ্যোৎ মানিক্য দেব বর্মা জানিয়েছেন, ‘‘ত্রিপুরার এক মেয়ের সঙ্গে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটেছে শুনে মর্মাহত। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছি। তবে সমাজকে অনুরোধ করছি, নির্যাতিতার নাম বা পরিচয় যেন কোনওভাবেই ফাঁস না হয়।’’
ওই বাড়ির মালিক ও পার্টির আয়োজকদের ভূমিকা কী ছিল? কীভাবে এমন অপরাধ ঘটল এবং তা রোখার চেষ্টা করা হল না? সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
