ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রবিবার স্পষ্ট জানালেন, নভেম্বর ২২ এর আগেই বিহারে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং এই রাজ্যই হতে চলেছে দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে প্রার্থীদের ছবি থাকবে রঙিন। এতদিন পর্যন্ত ভোটের ব্যালটে প্রার্থীদের ছবি সাদা-কালোয় থাকত, যা অনেক সময় ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তির কারণ হতো। এবার থেকে রঙিন ছবি থাকায় প্রার্থীদের পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, কমিশন ঘোষনা করে বিহারেই প্রথমবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১,২০০ জন ভোটার রাখা হবে। এর ফলে প্রতিটি বুথে ভিড় কমবে এবং ভোটদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে কমিশনের দাবি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রাজ্যে প্রায় ১২,৮১৭টি নতুন ভোটকেন্দ্র যোগ করা হয়েছে। এর ফলে মোট বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯০,৭১২, যা এতদিন ছিল ৭৭,৮৯৫। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই উদ্যোগে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটাররাও সহজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কমিশন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ওয়েবকাস্টিং চালু করা হবে, যাতে ভোটগ্রহণের প্রতিটি মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি বুথে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে ভোটাররা সহজেই তাঁদের চিহ্নিত করতে পারেন। ইভিএমে প্রার্থীদের ধার্য নম্বরও বড় হরফে ছাপানো হবে যাতে পড়তে সুবিধা হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিহারের আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, “নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। ছট উৎসব এবং দীপাবলির মতো উৎসবের আবহে মানুষ ভোটকেও উৎসবের মতো করে উদ্যাপন করুন।” তিনি সমস্ত ভোটারকে অনুরোধ করেছেন সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে।
এর আগে ঘোষনা করা হয়েছিল এবার নিজের ফোন থেকেই ভোট দিতে পারবে ভোটদাতারা। দেশে এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম। এই প্রক্রিয়ায় নিদির্ষ্ট অ্যাপ থেকে রেজিস্টার করে ভোট দিতে পারবেন ভোটদাতারা। যেখানে একটি মোবাইল নম্বরে দুইটি ভোতার কার্ড রেজিস্টার করা যাবে। এছাড়াও মোবাইল ফোনে ভোট গ্রহনে বেশ কিছু নিয়ম জাড়ি করেছিল কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এমন সিধান্তের কারন হিসাবে বলা হয়েছিল যে বিহারের অনেক মানুষই কাজের সুত্রে দেশের বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকেন। যার ফলে তাঁদের ভোট সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোট দেওয়ায় তাদেরই সুবিধা হবে বলে মনে করেছে কমিশন।
রাজনীতিক মহলে এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রঙিন ব্যালট, সীমিত ভোটারসংখ্যা, ওয়েবকাস্টিং এসব নতুন উদ্যোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আস্থা ও প্রযুক্তিগত উন্নতির এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ছট উৎসবের পর ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, এবং কমিশনের এই পদক্ষেপ আগামী নির্বাচনে ভোটারদের অভিজ্ঞতাকে একেবারে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে।
