ওঙ্কার ডেস্ক: এক নাবালকের হাতে হেনস্থার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করলেন এক টিউশন শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের সুরাটের কাটারগাম এলাকায়। ওই শিক্ষিকার মৃত্যুর ফলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত নাবালককে আটক এবং তাঁর বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী টিউশন শিক্ষিকার নাম নেনু ভাভাদিয়া। ১৯ বছর বয়স তাঁর। তিনি এক নাবালক ছেলে এবং তার বাবার দ্বারা ক্রমাগত হয়রানি, হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত করেছে। মঙ্গলবার যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, নেনু যে টিউশন ক্লাসে পড়াতেন সেখানে এক নাবালক ছেলে তার ভাগ্নিকে পড়ার জন্য দিয়ে যেত। সেই নাবালক ওই শিক্ষিকাকে অনুসরণ করা শুরু করে এবং হয়রানি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নাবালকটি বারবার শিক্ষিকার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির জন্য চাপ দিত। শুধু তাই নয়, ফোনে তাঁকে হেনস্থা করত। এমনকি ৩০,০০০ টাকা মুক্তিপণও দাবি করত অভিযুক্ত। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষিকার বাবা যখন অভিযুক্তের বাবাকে বিষয়টি বলেন, অভিযোগ সেই সময় তার বাবা ছেলের পক্ষ নেন। নেনু’র বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার, সিঙ্গানপুর পুলিশ অভিযুক্ত নাবালককে আটক করে এবং তার বাবাকে গ্রেফতার করে। দুজনের বিরুদ্ধেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা, চাঁদাবাজি এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। বাবাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এক দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছেন। নাবালককে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলে গুজরাটের প্রভাবশালী রাবারি সম্প্রদায়ের, অন্যদিকে মৃত মেয়েটি পাতিদার সম্প্রদায়ের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
