ওঙ্কার ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরের বুকে ফের সক্রিয় হয়েছে নিম্নচাপ। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি এলাকায় একটি নিম্নচাপ গতকাল থেকে আকার নিতে শুরু করেছে। আগামী কালের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। তবে সাইক্লোনে রূপ নেওয়ার আগেই অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলের কোনও অংশ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই নিম্নচাপের ব্যাসার্ধ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার, ফলে কেন্দ্রস্থল থেকে দু’পাশে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আবহাওয়া এর প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কাল বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও দেখা দিতে পারে। অন্তত ২৮ তারিখ পর্যন্ত এর প্রভাব জারি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই নিম্নচাপ কাটার পর ফের উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আভাস রয়েছে। মায়ানমার ও বাংলাদেশ উপকূলের মাঝামাঝি এলাকায় সেটি আকার নিতে শুরু করবে এবং ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে এসে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের মাঝামাঝি কোনও অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এই নিম্নচাপটির বিস্তারও বড় আকারের হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্যের ঢাল দেখে এর আভাস এখন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার তিন থেকে চার দিন আগে থেকেই তার আকার ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা মেলে।
আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, বর্তমান নিম্নচাপের প্রভাব ২৮ তারিখ পর্যন্ত থাকবে। এর পর ২৯ ও ৩০ তারিখ আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। তবে তার পরই নতুন নিম্নচাপের কারণে ফের বৃষ্টি শুরু হবে।

এদিকে ভূবিজ্ঞানী সুজীব কর জানিয়েছেন, কাঁথির উপরে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। এই স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাব পড়ছে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায়। এর জেরে অন্তত আগামী কাল সকাল ১০টা পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া বজায় থাকবে। অর্থাৎ, বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গ একসঙ্গে দুটি নিম্নচাপের প্রভাবে রয়েছে, যার কারণে বৃষ্টিপাত ও অস্থির আবহাওয়া কিছু দিন আরও জারি থাকবে।
