উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এমন একটি সমস্যা, যা অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। তাই শুধু শরীরে উপসর্গ দেখা দিলেই যে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে—এমন নয়; নিয়মিত রক্তচাপ মাপাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাব্য লক্ষণ
বেশিরভাগ মানুষের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে গেলে নিচের উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালে
- মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
- চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টির পরিবর্তন
- নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ
- বুক ধড়ফড় বা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া
- বমি বমি ভাব বা বমি
- অতিরিক্ত অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি
- বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট
কী কী সাবধানতা অবলম্বন করবেন
নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে মাপলে একই সময়ে কয়েক দিন মেপে রেকর্ড রাখা উপকারী।
নুন কম খান। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম নুন খাওয়া উচিত । আচার, পাপড়, চানাচুর, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।
শাকসবজি ও ফল বেশি খান এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন—যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো।
ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর ওজনের দিকে আসুন।
ধূমপান ও তামাক বর্জন করুন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন বা সীমিত করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
চিকিৎসক ওষুধ দিলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ, কম-বেশি বা পরিবর্তন করবেন না।
কখন জরুরি চিকিৎসা দরকার ?
রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি হলে এবং একই সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা/অবশভাব, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির গুরুতর পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন, উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।