স্ট্রেচ মার্ক বা ত্বকের টানজনিত দাগ একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। শরীরের ত্বক দ্রুত প্রসারিত বা সঙ্কুচিত হলে ত্বকের নিচের কোলাজেন ও ইলাস্টিনে পরিবর্তন ঘটে এবং ত্বকে লম্বা দাগের মতো রেখা দেখা দিতে পারে। সাধারণত পেট, কোমর, উরু, নিতম্ব, স্তন, বাহু বা পিঠে স্ট্রেচ মার্ক বেশি দেখা যায়। দ্রুত ওজন বাড়া বা কমা, গর্ভাবস্থা, বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি এবং কিছু হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে এটি হতে পারে।
অনেকের প্রশ্ন থাকে—একবার স্ট্রেচ মার্ক হলে কি এটি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব? বাস্তবতা হলো, স্ট্রেচ মার্ক একবার তৈরি হয়ে গেলে ঘরোয়া কিছু উপায়ে সেটিকে মুছে ফেলা সাধারণত সম্ভব। নিয়মিত যত্ন এবং কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে এর রং, গভীরতা অনেকটাই কমানো যেতে পারে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে যা করতে পারেন
- ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন : প্রতিদিন স্নানের পর ত্বকে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক নরম ও আর্দ্র থাকে।
- অ্যালোভেরা জেল: খাঁটি অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে ১৫–২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন। জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
- পর্যাপ্ত জল পান করুন : শরীর হাইড্রেটেড রাখলে ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
- পুষ্টিকর খাবার খান: ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফলের মতো প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত রাখুন।
- ওজন দ্রুত বাড়ানো-কমানো এড়িয়ে চলুন : দ্রুত ওজনের পরিবর্তন নতুন স্ট্রেচ মার্ক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না : লেবু, বেকিং সোডা বা শক্ত স্ক্রাব দিয়ে ঘষা এড়িয়ে চলুন—এগুলো ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতি করতে পারে।
মনে রাখবেন- নতুন লাল/বেগুনি স্ট্রেচ মার্ক তুলনামূলকভাবে চিকিৎসায় বেশি সাড়া দিতে পারে, আর পুরোনো সাদা দাগ কমানো কঠিন। গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কোনো ওষুধযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।