ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে থানায় থান্য বসতে চলেছে উচ্চমানের নজরদারি ব্যবস্থা। কমিশানারেট থানা গুলিতে থাকবে হাই টেক সির্ভেলেন্স সিসি তিভি ক্যামেরা। দাবি দীর্ঘদিন ধরে থানার সিসি ক্যামেরার নিম্নমান ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে উঠেছিল একাধিক অভিযোগ। পুলিশের দাবি, থানায় লাগানো বর্তমান ক্যামেরাগুলির বেশিরভাগই নিম্নমানের, নাইট ভিশন সুবিধা নেই, স্টোরেজ সীমিত ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা এবং আদালতে প্রমাণ হাজির করা নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল তদন্তকারী আধিকারিকদের।
এই অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্য পুলিশ এবার কমিশনারেট এলাকার থানাগুলিতে বসাতে চলেছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। সূত্রের খবর, প্রাথমিক পর্যায়ে ছ’টি কমিশনারেটের অন্তর্গত ৫০টি থানায় বসানো হবে এক ঝটকায় কুড়িটি করে ক্যামেরা। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মিলবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
অধিকর্তাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের এই ক্যামেরাগুলি হবে অত্যাধুনিক। তাতে থাকবে হাই-ডেফিনিশন অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সুবিধা, উন্নতমানের নাইট ভিশন, এবং টানা ৩৬৫ দিনের ফুটেজ সংরক্ষণের ক্ষমতা। ফলে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে প্রমাণ হাজির করতে গিয়ে আর সমস্যায় পড়তে হবে না পুলিশকে। পাশাপাশি থানার ভেতরে কর্মরত আধিকারিকদের আচরণ, অভিযুক্তকে জেরা করার সময় কোনও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ, কিংবা চাইল্ড কর্নারে নিরাপত্তার বিষয় সবকিছুর উপরই থাকবে কড়া নজর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই তদন্তকারীর ঘর, জেরা কক্ষ ও শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গাগুলি সম্পূর্ণ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিটি থানায় গড়ে মাত্র ছয়টি ক্যামেরা রয়েছে। অথচ নির্দেশ অনুযায়ী অন্তত কুড়িটি ক্যামেরা থাকা জরুরি। রাজ্যের সব থানায় এই ব্যবস্থা চালু করতে খরচ পড়বে একশো কোটিরও বেশি। তবে মামলার চাপ ও কার্যকারিতা বিচার করে প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও তার সংলগ্ন কমিশনারেটগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই শুরু হবে ক্যামেরা বসানোর কাজ। প্রথম ধাপে ৫০টি থানায় এই হাই-টেক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলে ধাপে ধাপে বাকি কমিশনারেট ও জেলা সদর থানাগুলিকেও আনা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। অধিকর্তাদের আশা, এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে তদন্ত প্রক্রিয়া যেমন হবে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য, তেমনই থানার ভেতরে পুলিশের কার্যকলাপ নিয়েও বাড়বে সাধারণ মানুষের আস্থা।
