ওঙ্কার ডেস্ক: ২০০২ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় মূল চক্রী আফতাব আনসারি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বিদেশে বসেই তিনি ষড়যন্ত্র করেছিলেন। শুক্রবার আদালতে হিন্দোল মজুমদারের জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে সরকারি আইনজীবী সেই ঘটনাকেই তুলনা হিসেবে টেনে আনলেন। অভিযোগ, স্পেনে বসেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন গবেষক হিন্দোল।
সেদিন আদালতে হিন্দোলকে পেশ করা হলে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক তাঁকে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, হিন্দোলই এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী। তিনি বিদেশে থেকেই একাধিক জনকে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাঁদের বয়ানের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মিল পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, জাতীয় পতাকা অবমাননা, পতাকা পোড়ানো এবং ভাঙচুরের মতো একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, “যেভাবে আমেরিকান সেন্টার হামলায় আফতাব দুবাইয়ে বসে ষড়যন্ত্র করেছিল, তেমনই হিন্দোলও বিদেশে থেকে পরিকল্পনা করেছে। অভিযুক্তদের জেরা করে পাওয়া তথ্য এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে প্রমাণিত হয়েছে যে, হিন্দোলের নির্দেশেই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হয়েছিল”। তাঁর দাবি, হিন্দোলকে জেরা করে জানতে হবে বিদেশে বসেই মন্ত্রীর উপর হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, এবং কেউ তাঁকে ব্যবহার করেছে কি না।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও সরাসরি হিন্দোলকে তুলনা করেন কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে। তাঁর বক্তব্য, “অনেকে বলছেন, হিন্দোল কৃতী ছাত্র। কিন্তু লাদেনও তো কৃতী ছাত্র ছিল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার দিন লাদেন ঘটনাস্থলে ছিল না। তবুও হামলার মূল ষড়যন্ত্রী সে-ই ছিল। হিন্দোলও ঘটনাস্থলে না থাকলেও বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করেছে। কৃতী মানে যে অপরাধ করলে পুলিশ ধরতে পারবে না, এমন নয়। আইন তার নিজের পথে চলবে”।
প্রসঙ্গত, হিন্দোল মজুমদারের বিরুদ্ধে গত ছয় মাস ধরে তদন্ত চালাচ্ছিল পুলিশ। তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয় এবং পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ মেলে। এখন জেরার মাধ্যমে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখবেন, এই হামলার পেছনে আরও কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যুক্ত ছিল কি না।
