ওঙ্কার ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে অংশ নিতে চলা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য নির্দেশিকা জারি করলো নির্বাচন কমিশন, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। শুক্রবার একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে ভোটের দিনে ভোটারদের সবেতন ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ যাতে কোনো ভাবে লঙ্ঘন না করা হয় সে জন্য বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশাবলী এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার জন্য নিয়োগকারী সংস্থা বা নিয়োগ কর্তাকে জরিমানা করা হবে।
১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন বলেছে, “যেকোনো ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তি, যিনি লোকসভা বা রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনে অথবা কোনো প্রাদেশিক পরিষদ/নির্বাচনী কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারী, তাঁকে ভোটের দিনে সবেতন ছুটি মঞ্জুর করা হবে।” এমন কি ওই নির্দেশিকায় এও বলা হয়েছে যে “এই ধরনের সবেতন ছুটির জন্য মজুরি থেকে কোনো কর্তন করা হবে না।”
উল্লেখ্য, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি—এই চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অন্যদিকে গোয়া, গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার আটটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনও হচ্ছে। অসম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে ৯ এপ্রিল, তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই রাজ্যগুলিতে সমস্ত সরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং কলেজ বন্ধ থাকবে। ভোটগ্রহণের দিনে সবেতন ছুটির আইন পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “যে কোনও নিয়োগকর্তা এই বিধান লঙ্ঘন করলে জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবেন। সমস্ত দৈনিক মজুরি এবং অস্থায়ী কর্মীরাও ভোটগ্রহণের দিনে সবেতন ছুটি পাওয়ার অধিকারী।”
অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত ভোটাররাও সবেতন ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন। নির্বাচন কমিশন তার বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “যেসব ভোটার (অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরি কর্মী সহ) তাদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থিত শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা নিযুক্ত আছেন, কিন্তু যে নির্বাচনী এলাকায় ভোট হতে চলেছে সেখানে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত, তারাও ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ভোটের দিন সবেতন ছুটির সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন।”
এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকারগুলিকে এই নির্দেশাবলী মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।