ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে আরও উন্নত ঐ শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে আরও উন্নত ঐ শক্তিশালী করতে অভিনব পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কেন্দ্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাজনাথ সিং সম্প্রতি এক ইঙ্গিতপুর্ন বার্তা জানিয়েছেন পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ‘আইএনএস আরিধান’ ভারতীয় নৈবাহিনীতে যুক্ত হতে চলেছে। এর জেরে ভারতের প্রতিরক্ষা খাত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মত প্রকাশ করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিশাখাপত্তনম সফরে রয়েছেন। এই শহরটি ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দপ্তর হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে এখানেই দেশের গোপনীয় পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে এই সফরের প্রেক্ষিতে তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই আসন্ন কোনও বড় ঘোষণা বা পদক্ষেপের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
আইএনএস আরিধান হল ভারতের অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ভেসেল প্রকল্পের তৃতীয় সদস্য, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এর আগে আইএনএস আরিহান্ত এবং আইএনএস আরিঘাত ইতিমধ্যেই নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন এই সাবমেরিন যুক্ত হলে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আগের মডেলগুলির তুলনায় আরও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, যা শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে সহায়ক। পাশাপাশি এতে রয়েছে শক্তিশালী পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, যা দীর্ঘ সময় জলে ডুবে থেকে অপারেশন চালানোর সক্ষমতা দেয়। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অস্ত্রসজ্জার দিক থেকেও আইএনএস আরিধান অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে রয়েছে একাধিক ভার্টিক্যাল লঞ্চ টিউব, যার মাধ্যমে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব। এর ফলে শত্রু দেশের অভ্যন্তরে দূর থেকে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা অর্জন করে ভারতীয় নৌবাহিনী। এই সক্ষমতা ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা পাল্টা আঘাত হানার কৌশলগত শক্তিকে আরও সুসংহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারত সবসময় অন্তত একটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকবে, যা দেশের নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে।