শুক্লা মাইতি
“গল্পের গরু গাছে ওঠে, কিন্তু এবার বটগাছে উঠলেন SIR-আতঙ্কি এক বাঙালি গৃহবধূ !” উত্তরপাড়া পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দমোটর কলোনি এলাকার ঘটনা। হিন্দমোটর কলোনিতে এমন দৃশ্য, যা দেখে এলাকার চা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে অফিসগামী সকলেই হকচকিয়ে গেলেন। কথায় আছে—গল্পের গরু গাছে ওঠে, কিন্তু আধুনিক বাংলায় দেখা গেল গল্প নয়, গাছে উঠলেন এক গৃহবধূ ! তবে যেমন তেমন গাছে নয়— উঠলেন প্রকাণ্ড এক বটগাছের মাথায়। একটু হলেই শোলের বীরু বসন্তীকে হার মানাতো, তবে সেই চিত্রনাট্য ছিল আলাদা। এটা এক্কেবারে সাম্প্রতিক ইস্যু। তাই তার উপস্থাপনাও অভিনব।
এ যেন শহুরে কোলাহলের মধ্যে লাইভ টেলিকাস্ট হওয়া এক রসাত্মক এপিসোড। আচমকা এমন এক কাণ্ডের খবর চাউর হতেই গাছতলায় ভিড় জমছে। ছানাবড়া চোখে সবাই দেখছেন বটগাছের মগডালে এক ‘জেহাদী’ মহিলা চরিত্র। কেউ বলছেন “পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নতুন অধ্যায়”, কেউ বলছেন “SIR ফর্ম না-ভরার আতঙ্কে আত্মগোপন”, আর কেউ বলছেন “উফ্ কী মানসিক চাপ ! SIR আতঙ্ক — নাকি প্রশাসনিক ভীতি ?
পুলিশ এল, বৌদি নামলেন না। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির। বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে এক পুলিশকর্মী বললেন, “বৌদি, নামুন নামুন…”
মোটা লাঠি শানিয়ে মুখঝামটে গৃহবধূর উত্তর, “নামব না চলে যান…… জেলে পুরবেন নাকি ?
“নামলে আবার ফর্ম দেবে !” এদিকে স্থানীয়রা এবং পুলিশ মিলে আশ্বাস দিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার মোবাইল লাইভ করছেন—সব মিলিয়ে এক দুরন্ত নাটকীয় দৃশ্য। কেউ বলছেন, উত্তরপাড়ায় যেভাবে দিনের আলোয় গাছ কাটা পড়ছে সেই প্রতিবাদে, কেউ আবার বলছেন SIR ফর্ম ফিলাপ হয়নি সেই আতঙ্কে,কেউ আবার বলছেন মানসিক অসুখ। যদিও এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করেনি ওঙ্কার বাংলা।
তবে এটা মানতেই হচ্ছে রাজ্য জুড়ে SIR নিয়ে একের পর এক যেসব ঘটনাবলী সামনে আসছে তার মধ্যে উত্তরপাড়ার এই ঘটনা অন্য মাত্রা দিল। SIR আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, অসুস্থতার খবরও মিলছে, SIR-এর কর্মপদ্ধতি ও যৌক্তিকতা নিয়ে আদলতে চলছে সওয়াল জবাব… কিন্তু এসব ছাপিয়ে SIR ইস্যুতে আতঙ্কের এক ভিন্ন চিত্র দিলেন উত্তরপাড়ার গেছো গৃহবধূ।
