ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হতে পারে, এমন জল্পনা সে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের শাসক শিবির ও সামরিক মহলের অন্দরমহলে এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। মূলত রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সংক্রান্ত মামলা এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যকলাপের অভিযোগকে সামনে রেখে এই পথ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক মামলায় জর্জরিত ইমরান খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনা স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর দলের সমর্থকদের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ইমরান খানের সম্পর্ক চরম তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেনা কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, ওই ঘটনার নেপথ্যে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ এড়াতে পারেন না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি প্রাক্তন আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের সামরিক আদালতে সাজা ঘোষণা হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তার বিরুদ্ধে সেনা শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড হয়েছে। এই ঘটনার পরই ইমরান খানের বিরুদ্ধেও সামরিক আদালতে বিচার হতে পারে এমন সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
পাকিস্তানে সাধারণত অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার বিরল ঘটনা। অতীতে জঙ্গি কার্যকলাপ বা সরাসরি সেনা বিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেই এই ধরনের আদালত ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে একজন প্রাক্তন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সামরিক আদালতে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। দলের বক্তব্য, সামরিক আদালতে বিচার মানে কার্যত ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করা। অন্যদিকে সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম আপস করা হবে না।
