ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটের আগে ফের রাজ্যে ভীষণভাবে সক্রীয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গুলি। গত সপ্তাহে দফায় দফায় কখনও কয়লা পাচার কান্ডে, কখনও জমি দখল ইস্যুতে একাধিক নেতা মন্ত্রী এবং প্রভাবশালি ব্যাক্তিদের বাড়ি, অফিসে হানা দেয় ইডি, সিবিআই। শুক্রবার সকালে রাসবিহারির তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালায় আয়কর বিভাগ। বিদায়ী বিধায়কের দুই বাড়িতেই হানা দেয় ইনকাম ট্যাক্স অফিসাররা বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ঠিক কারণে এই তল্লাশি তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকেই আয়কর দফতরের একটি বড় দল দেবাশিস কুমারের মনোহরপুকুর রোডের বাসভবনে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একই সময়ে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়েও সমান্তরালভাবে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলাকালীন গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকা ঘিরে ফেলা হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আয়কর আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করেন বলে সূত্রের খবর।
এই তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো না হলেও, তদন্তকারী মহলের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কিছু অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান। এর আগেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে এসেছিলেন ওই নেতা বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের প্রার্থীদের চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ঘটনাস্থলের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভও দেখান এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।