ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত রাশিয়া থেকে আরও ৩০০টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ব্যাপক ব্যবহারের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতেই নতুন ভাবে কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী প্রকল্পে খরচ হতে পারে ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি। শীঘ্রই রাশিয়ার রোসোবোরোন এক্সপোর্টকে পাঠানো হবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভারতীয় বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ পাল্লায় একাধিক লক্ষ্যবস্তু নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম এই সিস্টেম ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার পর দ্রুতগতিতে মোতায়েন করা হয়েছিল। সেনা সূত্রের দাবি, গত এক বছরে সীমান্ত নজরদারির কারনে উললেখ্য এই সিস্টেম ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে, যা পুনরায় পূরণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র কেনাই নয়, ভবিষ্যতে এস-৪০০ সিস্টেমের আরও ইউনিট কেনার কথাও চিন্তা করছে কেন্দ্র। পাশাপাশি দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ছোট ও মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। লক্ষ্য মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ককে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা শত্রু দেশের আকস্মিক আক্রমণ, উভয় অবস্থাতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইছে ভারত। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এখনও ভারতের প্রতিরক্ষা ভরসার অন্যতম স্তম্ভ। সেই কারণেই এস-৪০০-এর মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের অস্থির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের সেনার বায়ু প্রতিরক্ষা ভিত্তিকে শক্তিশালী করাই সময়ের দাবি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, কেন্দ্র দ্রুত এই চুক্তি অনুমোদন করতে চাইছে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া মাত্রই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের সময়সূচি ঘোষণা করবে রাশিয়া। সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কেনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে। এই মজুত বাড়লে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর হবে এবং সম্ভাব্য বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা জোরদার হবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
