নিজস্ব সংবাদদতা: শেষ পর্যন্ত খাড়গের বাড়িতেই বসল ইন্ডি জোটের বহুচর্চিত মক পার্লামেন্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’-এর যে পরিকল্পনা শুক্রবার ছিল, তা একদিন পিছিয়ে শনিবার কার্যকর করল বিরোধী শিবির। যদিও বিরোধীরা এখন আর একে মক পার্লামেন্ট বলছে না, তাদের ভাষায় এটি ‘জন মহাভিযোগ’।
এদিন বিকেলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের রাজাজি মার্গের বাসভবনে এই বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। অধ্যক্ষের ভূমিকায় ছিলেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। উপস্থিত ছিলেন ইন্ডি জোটের প্রায় সব শীর্ষ মুখ – রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, খাড়গে নিজে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, বাম নেতা এম এ বেবি, বৃন্দা কারাত। তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ।
অধিবেশনের সূচনায় মীরা কুমার বলেন, ভোটাধিকারই ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, একজন ভোটারকেও বঞ্চিত করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এরপর ইন্দিরা গান্ধী ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে স্মরণ করে মূল প্রস্তাব পেশ করেন খাড়গে।
প্রস্তাবে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, প্রায় ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সংসদকে এড়িয়ে ফর্ম ৬ বদলানো হয়েছে, ইসিআইনেট ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপি, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করা এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করা। খাড়গের সাফ অভিযোগ, এই ধরনের কাজ দেশদ্রোহিতার সমান।
কংগ্রেসের বক্তব্য, মানুষের ভোটাধিকার কীভাবে খর্ব করা হচ্ছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এই প্রতীকী উদ্যোগ।
অন্যদিকে বিজেপি পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক নাটক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, রাহুল গান্ধীকে ফের সামনে আনতেই এই আয়োজন। একজন প্রাক্তন স্পিকার ও বর্তমান সাংসদদের দিয়ে এভাবে নকল সংসদ বসানো সংসদীয় রীতির অবমাননা বলেও পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি।