ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’র নিরাপদ ভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নিয়ে মোট সাতটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে এই সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ পেরোতে সক্ষম হয়েছে, এবং সবকটিই এলপিজি বহনকারী ট্যাঙ্কার।
‘গ্রিন সানভি’ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে নির্দিষ্ট করিডর ব্যবহার করে যাত্রা সম্পন্ন করে। জাহাজটিতে প্রায় ৪৪,০০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে, যা ভারতের দৈনিক চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করতে সক্ষম। চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই যাত্রা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন আশা’ এবং ‘জগ বিক্রম’ শীঘ্রই একই পথ অনুসরণ করে ভারতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, সংকটকালেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে ভারত সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বর্তমানে পারস্য অঞ্চলে, প্রণালীর পূর্ব দিকে মোট ১৭টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এলপিজি ট্যাঙ্কার ছাড়াও অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, এলএনজি ট্যাঙ্কার, রাসায়নিক পণ্যবাহী জাহাজ, কন্টেনারবাহী জাহাজ এবং বাল্ক ক্যারিয়ার। এছাড়াও কয়েকটি জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের কাজেও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত কূটনৈতিক স্তরে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়। ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের কাছে শত্রু নয়, তাদের জাহাজ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত-সহ একাধিক দেশের জাহাজকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
যাত্রাপথে ‘গ্রিন সানভি’ নিজেকে ভারতীয় জাহাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে এবং জাহাজে থাকা নাবিকদের পরিচয়ও প্রদর্শন করে। পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরকে সঙ্গে যুক্ত করা এই হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে এই পথে নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।