ওঙ্কার ডেস্ক: সোমবার সন্ধ্যে বেলায় রাজাধানীর লাল কেল্লা মেত্রো স্টেশনের ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। ঠিক তারপর দিনই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও বিস্ফোরনের ঘটনা উঠে আসে। ইসলামাবাদের বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে পাকিস্তান সরকার নিজের চিরাচরিত ভাবমূর্তি বজায় রেখে এই বিস্ফোরণের জন্য ভারতকেই দায়ী করেছে। অপরদিকে নয়া দিল্লিও পাকিস্তানের এই দাবিকে একেবারেই মানতে নারাজ।
১১ নভেম্বর ইসলামাদে বিস্ফোরের পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে নাকি ভারতের হাত রয়েছে। কিন্তু দিল্লি এই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সাওয়াল জানিয়েছেন, “পাকিস্তানের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও মনগড়া”।
বিস্ফোরণটি ঘটে ইসলামাবাদের এক আদালত কমপ্লেক্সে, যেখানে অন্তত বারো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পাকিস্তানের প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আদালত ভবনের একাংশে বিস্ফোরক রেখে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, যা সম্ভবত একটি আত্মঘাতী হামলার অংশ হতে পারে। ঘটনার পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শারিফ দাবি করেন, এই হামলায় ভারতের মদতপুষ্ট সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লি থেকে আসে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীড় জায়সাওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান বারবার নিজের ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি ঢাকতে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে”। তিনি আরও বলেন, “ইসলামাবাদের এই অভিযোগও সেই পুরনো প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি”। মন্ত্রক আরও জানায়, “সন্ত্রাসবাদ যে পাকিস্তানের মাটি থেকেই বহুবার উৎসারিত হয়েছে, তা গোটা বিশ্ব জানে। অথচ নিজের দেশে ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা আড়াল করতে প্রতিবেশী দেশের নাম টেনে এনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদের বিস্ফোরণ এবং তার পরবর্তী কূটনৈতিক সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতাবস্থা আরও জটিল করে তুলতে পারে। দুই দেশের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি তাতে আরও ঘন ছায়া ফেলতে চলেছে বলে অনুমান আন্তর্জাতিক মহলের। বর্তমানে বিস্ফোরণটির কারণ নিয়ে পাকিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে, তবে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই।
