ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার কারণে ভারতকে শাস্তিমূলক শুল্কের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই মস্কো পৌঁছলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির এই সংযোগ একাধিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নকে সামনে এনেছে। যদিও এই সফর পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে জানানো হয়েছে, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এর তাৎপর্য অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
রবিবার থেকে মস্কো সফরে রয়েছেন ডোভাল। উদ্দেশ্য, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন সময়ে এই উচ্চপর্যায়ের সফর যে বার্তা দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করেরও চলতি মাসের শেষে রাশিয়া সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে কূটনৈতিক স্তরে রাশিয়ার সঙ্গে একের পর এক বৈঠক আন্তর্জাতিক বার্তা দিচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতেই বদ্ধপরিকর নয়াদিল্লি।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে, অথচ আমেরিকার বাজারে ভারত প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। তাই তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন, এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই শুল্ক আরও বাড়ানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়া থেকে তেল কেনা মানে ইউক্রেনের যুদ্ধকে মদত দেওয়া, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মেনে নেওয়ার মতো নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে। একদিকে আমেরিকা যেখানে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ভারত স্পষ্ট করে দিচ্ছে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস নয়। রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অক্ষুণ্ণ রাখতেই আগ্রহী নয়াদিল্লি। ফলে বিশ্ব কূটনীতির জটিল মানচিত্রে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এবং ভারত-আমেরিকা টানাপোড়েন ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
