ওঙ্কার ডেস্ক: চিনের কুইংদাওয়ে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রামনাথ সিং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কোনও দেশের নাম না করলেও তাঁর ভাষণের মূল লক্ষ্য যে ছিল পাকিস্তান, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। রাজনাথ বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে ভারত কোনওদিন সমর্থন করেনি, আর করবেও না। সন্ত্রাস ও শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা জঙ্গিপনাকে একেবারেই বরদাস্ত করব না।’’ তিনি SCO-কে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ব্যাবস্থাপনা নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
এদিন SCO-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত হতে যাওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে ভারতের অবস্থানকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলস্বরূপ, রাজনাথ সিং সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। ভারতের এই অসন্তোষের জেরে শেষ পর্যন্ত SCO যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে সম্প্রতি পহলগামে লস্কর-ই-তোইবার হামলার প্রসঙ্গ টেনে রাজনাথ সন্ত্রাসবাদীদের রাষ্ট্রীয় মদতের কড়া সমালোচনা করেন। নাম না করেই পাকিস্তানের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “জঙ্গিদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, আর্থিক মদত, প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পক্ষে ভয়ানক বিপদ।”
এই সফরে রাজনাথ সিংয়ের চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন-এর সঙ্গে বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে ভারত-চিন সামরিক যোগাযোগ নতুনভাবে চালু করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার এত উচ্চপর্যায়ে মুখোমুখি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
SCO-র দশটি সদস্য দেশের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও আপস করতে চায় না ভারত। আর যারা একদিকে শান্তির কথা বলে, অন্যদিকে জঙ্গিদের সমর্থন জোগায়, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ব্যাবস্থা নিতে হবে।
