ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। সাম্প্রতিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পারস্পরিক সহযোগিতার পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এফটিএ কার্যকর হলে কৃষি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, হীরক শিল্প, ওষুধ এবং স্টার্ট-আপ খাতে ব্যাপক গতি আসবে। শুল্ক ছাড় এবং বিনিয়োগের সহজীকরণ দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইউপিআই ইজরায়েলে চালুর উদ্যোগ। এর ফলে ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভারতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন। এই পরিষেবা চালু করতে ভারতের এনপিসিআই-র সঙ্গে ইজরায়েলের সংশ্লিষ্ট আর্থিক সংস্থার সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।
ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার এই সংযোগ শুধু লেনদেন সহজ করবে না, বরং দুই দেশের স্টার্ট-আপ ও ফিনটেক সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে চাইছে উভয় দেশ, আর ইউপিআই সংযোগ সেই লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি গবেষণা এবং জল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েল এবং দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ভারত উভয়ের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব”-এর স্তরে উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।
