ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব আবারও নিজের ঘাড়ে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর সময় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চার থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল।
শুক্রবার রাতে রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর এবং ‘হাউস অফ রিপ্রেযেন্টেটিভস’ এর সদস্যদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা বহু সংঘর্ষ থামিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভারত-পাকিস্তানের সীমানায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত। দুটি পারমাণু শক্তিধর দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে আঘাত হানছিল। একে অপরের যুদ্ধবিমান গুলি করে মাটিতে নামানো হচ্ছিল। আমার মতে অন্তত পাঁচটি জেট ধ্বংস হয়েছিল”। কিন্তু ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি ঠিক কোন দেশের কতগুলি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বা ওই সময় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে আবারও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ এর আগেও গত দু’মাসে একাধিকবার ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও পর্যটক হত্যাকাণ্ডের পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়, যাতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ভূভাগে স্থিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধুলিসাত করে ভারতীয় সেনা।সেই হামলার পাল্টা আঘাত হানে পাকিস্তান সেনাও। টানা চার দিন যুদ্ধের পর পাকিস্তান ভারতের দারস্থ হলে ইসলামাবাদ ও দিল্লির যৌথ উদ্দোগ্যে ও আলোচনার পর যুদ্ধ বিরতির সিধান্ত নেওয়া হয়।কিন্তু ট্রাম্প বারংবার এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিয়েই যাচ্ছেন। টারিফ বিল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত সব জায়গায় ভূয়ষী হয়ে ওঠার চেষ্টা করে চলেচ্ছেন। যদিও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করেনি তবুও ট্রাম্প নিজের ঢোল পিটিয়ে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজারে।
ভারত-পাক যুদ্ধে পাকিস্তানি হামলায় যে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল সেকথা নিজেই সংবাদ বৈঠকে বলেছলেন সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান। কিন্তু সেই বিবৃতিতে বিমানের সংখ্যা বা তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সমন্ধে কোনো কথাই উল্লেখ ছিল না। অন্যদিকে পাকিস্তানও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলেনি। ট্রাম্পের দাবি কতটা তথ্যসম্মত, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
