ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে ফ্লাইট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় ইন্ডিগোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও দেরির ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইন্ডিগোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার এলবার্সকে তদন্তকারী সংস্থা সমন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর নির্ধারিত সময়ে উড়ান বাতিল বা দেরি হওয়ার অভিযোগ উঠছে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, আগে থেকে যথাযথ তথ্য না পেয়ে তাঁদের ভ্রমণসূচি পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। কেউ গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, কেউ চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি কাজে, কেউ আবার পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ব্যস্ত ছিলেন। এমন অবস্থায় শেষ মুহূর্তে বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের আর্থিক ক্ষতি পাশাপাশি মানসিক ক্ষতি বাড়িয়েছে।
এদিকে, বিমানবন্দরগুলি থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। বহু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের বিকল্প হিসেবে উপযুক্ত সমাধান দেওয়া হয়নি। অর্থ ফেরত বা রি-শিডিউল করার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরো পরিস্থিতিকে ঘিরে বিভিন্ন ভোক্তা সংগঠনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ফ্লাইটের পুনরাবৃত্ত সমস্যার ফলে বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হবে। পাশাপাশি, সমস্যা মোকাবিলায় সংস্থার পদক্ষেপ ও যাত্রী-সুবিধা নিশ্চিত করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হবে। সেই সূত্রেই সিইও পিটার এলবার্সকে সংস্থাপন করে আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।
এয়ারলাইন সূত্রে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিমান পরিবহন মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, সংস্থা পাইলট-ম্যানপাওয়ার ও ফ্লিট ম্যানেজমেন্টের চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীচাহিদা বাড়লেও পরিষেবা বৃদ্ধির কাজ সে অনুযায়ী হয়নি বলেও মত বিশ্লেষকদের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠছে। কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, কতদিন চলবে এই অচলাবস্থা, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে বাকি। তবে যাত্রী-ক্ষোভে প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর চাপ বাড়ছে, আর সেই লক্ষ্যে এবার ইন্ডিগোর শীর্ষকর্তার জবাবদিহিই প্রধান নজর।
