ওঙ্কার ডেস্ক: একটি আন্তর্জাতিক সাইবার সুরক্ষা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের প্রায় এক কোটি পঁচাত্তর লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ডার্ক ওয়েবে যে তথ্যের প্যাকেজটি বিক্রি করা হচ্ছে, সেখানে ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রাম ইউজারনেম, সম্পূর্ণ নাম, ই-মেল আইডি, ফোন নম্বর এবং কিছু ক্ষেত্রে আংশিক ঠিকানার মতো সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। যদিও সরাসরি পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মেলেনি, তবুও এত বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে চলে যাওয়াকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের তথ্য ব্যবহার করে খুব সহজেই ফিশিং, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাকের মতো অপরাধ ঘটানো সম্ভব।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, এই তথ্য ফাঁসের উৎস ইনস্টাগ্রামের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা এপিআই-সংক্রান্ত দুর্বলতা হতে পারে, যার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরে সেই তথ্য ডার্ক ওয়েবের বিভিন্ন হ্যাকার ফোরামে বিক্রির জন্য তোলা হয়। ইতিমধ্যেই কিছু তথ্য ফাইল আকারে অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর বহু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী আচমকা পাসওয়ার্ড রিসেট সংক্রান্ত ই-মেল পেতে শুরু করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে। যদিও ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটা দাবি করেছে, তাদের সিস্টেমে সরাসরি কোনও বড়সড় ডেটা ব্রিচ ঘটেনি এবং ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলেও তার প্রভাব ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার উপর পড়ছে, যা উপেক্ষা করা যায় না।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করা, সন্দেহজনক মেসেজ এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখার মতো পদক্ষেপকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
