ওঙ্কার ডেস্ক: ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার পর থেকেই সমুদ্রে জোরকদমে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটকবাহী স্পিডবোটটিতে মোট ৩৬ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক এবং চারজন নৌকার কর্মী। পর্যটকেরা ফু কুয়কের কাছাকাছি একটি দ্বীপ ভ্রমণ শেষে আন থই বন্দরের উদ্দেশে ফিরছিলেন। গন্তব্য থেকে অল্প দূরে থাকতেই আচমকা স্পিডবোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার জেরে বহু যাত্রী জলে ছিটকে পড়েন, আবার কয়েকজন নৌকার ভিতরেই আটকে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ভিয়েতনামের কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। সমুদ্রে থাকা আশপাশের পর্যটকবাহী নৌকাগুলিও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পাশাপাশি ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কী কারণে স্পিডবোটটি উল্টে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন, সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতি অথবা যান্ত্রিক ত্রুটি সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিয়েতনামের প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে নৌকার প্রযুক্তিগত অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে।