ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার রাতে নেপালের পোখরা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে একটি যাত্রী বাহী বাস নদীর জলে পরে যায়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ন ১৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। আহত দের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরতর।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি পোখরা থেকে কাঠমান্ডু-র উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। মাঝরাতে ধাদিং জেলা-র অন্তর্গত বেনিঘাট রোরাং এলাকার কাছে এসে বাসটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ও অন্ধকারের কারণে চালক সঠিকভাবে গাড়ি সামলাতে পারেননি। এরপরই বাসটি সোজা গিয়ে পড়ে ত্রিশুলি নদী-তে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় স্থানীয় পুলিশ, নেপাল আর্মি এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স-এর উদ্ধারকারী দল। রাতভর চলে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ। নদীর প্রবল স্রোত উদ্ধারকার্যে বাধা সৃষ্টি করে। বহু যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, রাস্তার খারাপ অবস্থা বা যান্ত্রিক ত্রুটি সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি রাস্তা ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে নেপালে প্রায়শই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে পৃথ্বী হাইওয়ে-র মতো ব্যস্ত সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন নেপালের প্রশাসনিক কর্তারা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
