ওঙ্কার ডেস্ক: ওমান উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে কর্মরত ছিলেন তাঁরা। হামলার পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করায় নাবিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকেরা জরুরি বিপদবার্তা পাঠিয়ে প্রাণ বাঁচানোর আবেদন জানান।
জানা গিয়েছে, পালাউ-নিবন্ধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি ওমান উপকূল সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীর কাছে চলাচল করছিল। সেই সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ইঞ্জিন রুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং জাহাজের তলদেশে ফাটল দেখা দেয়। ফলে দ্রুতগতিতে জল ঢুকতে শুরু করে। পাশাপাশি জাহাজে আগুন লাগায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জাহাজের কর্মীরা বুঝতে পারেন, দ্রুত উদ্ধার না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বিপদের মুখে পড়ে নাবিকেরা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান। তাঁদের পাঠানো বার্তায় জাহাজ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই বার্তা পৌঁছায় ভারতের মুম্বইস্থিত মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় এবং ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
এরপর ওমানের উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। একটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে একে একে জাহাজে আটকে থাকা নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারী দল সফলভাবে সমস্ত ভারতীয় নাবিককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় জাহাজ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং সমুদ্রের মাঝখানে বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যেই অভিযান চালাতে হয় উদ্ধারকারী কর্মীদের।
ঘটনার পর ভারতীয় নাবিক সংগঠনগুলি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ জলসীমায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ফলে সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।
ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদ রয়েছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সমুদ্রপথে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের জীবনও মুহূর্তের মধ্যে বিপদের মুখে পড়তে পারে।