ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটে জেতার ২৮ দিনের মাথায় ২৮ বছরের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভাতে তৃণমূলের রক্ত ক্ষরণ হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও শুরু হয়ে গেল রক্তক্ষরণ। ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় জয়ের পর ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে সুস্মিতা দেবকে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্য ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তার ঘটানো। সুস্মিতাকে দলে এনে সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ পদ দেওয়া হয় এবং ত্রিপুরা ও অসমে দলের সংগঠন বাড়ানোর গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়।
আসামের শিলচরের প্রাক্তন কংগ্রেস লোকসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব ২০১৯ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বভারতীয় মুখপাত্র হিসেবে দলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি এবং পরবর্তীকালে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। উত্তর-পূর্বে দলের বিস্তার ও জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুখেন্দু শেখর রায়ের পর সুস্মিতার এই আকস্মিক পদত্যাগ তৃণমূলের সংসদীয় দলের ওপর নেত্রীর রাশ আলগা হওয়ার জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
উল্লেখ্য, বাংলা থেকে রাজ্যসভায় ১৬টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৩ জন। সুখেন্দু শেখর রায় ইতিমধ্যেই তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার পদত্যাগ করলেন সুস্মিতা দেবও। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য়সভায় ২টি আসন শূন্য হল তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিধানসভায় BJP-র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে অনায়াসেই এই ২ আসন জিতে যাবে তারা।
অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ২০ জন লোকসভার সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম, শতাব্দী রায়, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীপদ সোরেন, জগদীশ বসুনিয়া, জুন মালিয়া। এই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে এবং পরবর্তীতে শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বৈঠক করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ২০ জনের দল NDA-র শরিক হতে চায় বলেই স্পিকারকে জানানো হয়েছে চিঠিতে।