ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রের প্রস্তাবিত পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে লোকসভায় সোমবারও তীব্র অচলাবস্থা দেখা দেয়। বিরোধী সাংসদদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে দিনের তৃতীয়বারের মতো লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়লা। পরে তিনি অধিবেশন বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। এর আগে দিনেই কেন্দ্র সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে আনা সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পেশ করে। কিন্তু বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কারণে বিলটি নিয়ে কোনও গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের আসনে ফিরে এসে আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্লোগান বা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সংসদে নিজেদের মতামত তুলে ধরাই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। তিনি আশ্বাস দেন, বিলটি নিয়ে প্রয়োজন হলে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সব দলের সদস্যরা নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারেন এবং দেশের ছাত্রছাত্রীরাও বুঝতে পারেন যে সংসদ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। স্পিকার বলেন, “সংসদে আলোচনা হওয়াই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি”। তাই বিরোধীদের বিক্ষোভের পরিবর্তে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর মতে, “পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সংসদের পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন”।
অন্যদিকে, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রশ্ন তোলেন, যখন একাধিক সাংসদ বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিয়েছেন এবং সরকার পর্যাপ্ত সময় দিতে রাজি, তখন বিরোধীরা কেন আলোচনা এড়িয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিবেশন মুলতবি করার আগে স্পিকার ওম বিড়লা সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা উচিত যাতে বিকেল ৫টা থেকে বিলটি নিয়ে সুস্থ ও ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু করা যায়।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে কেন্দ্র সরকার এই সংশোধনী বিল এনেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকায় সংসদে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেই আশা করা হচ্ছিল। তবে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দিনের অধিকাংশ সময়ই লোকসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত অধিবেশন বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।