ওঙ্কার ডেস্ক: তুরস্কের একটি স্কুলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হঠাৎই গুলির শব্দে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। এই ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও প্রায় কুড়ি জন। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক এবং কয়েকজন ছাত্রছাত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে, স্কুল চলাকালীন আচমকাই এক ছাত্র ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। প্রথমে স্কুলের প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তারপর সে একাধিক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গুলির শব্দ শুনে অনেক ছাত্রছাত্রী ক্লাসরুম ছেড়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে, কেউ জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেয়, কেউ আবার লুকিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ এবং জরুরি পরিষেবা। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা আহতদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ছাত্রটি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া এবং সে তার বাবার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই এই হামলা চালায়। ঘটনার পর অভিযুক্তেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার জেরে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গোটা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্পবয়সীদের হাতে সহজে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানতে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে এই ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও ভাবা হচ্ছে।