ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এই প্রেক্ষাপটে সূত্রের খবর, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আলোচনাটি ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রাইটার্স্-এর দাবী অনুযায়ী ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা নিয়েই মূলত কথাবার্তা হয়েছে। এই অভিযানে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি কীভাবে ভূমিকা নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সহায়তা দিতে পারে সেই বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং কৌশলগত সমর্থনের মতো বিষয় উঠে এসেছে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানকারী কয়েকটি কুর্দি সংগঠন বহুদিন ধরেই ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয়। তাদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের শাসনের বিরোধিতা করে আসছে। সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরে চাপ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাতে চাইছে কুর্দি নেতৃত্বের একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের তরফেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে। ইরান ইতিমধ্যেই একাধিক ফ্রন্টে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একইসঙ্গে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ কুর্দি অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।