ওঙ্কার ডেস্ক: বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট এবং রাডার প্রযুক্তির সাহায্যে অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে ৪৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল নদীর সন্ধান পেয়েছেন, যা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিজ্ঞানীরা গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এটিকে সাধারণভাবে একটি সাবগ্লিসিয়াল নদী হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। নদীটি মূলত পূর্ব আন্টার্কটিকার বরফের চাদরের গভীর থেকে উৎপত্তি হয়ে আন্টার্কটিকার ওয়েডেল সাগরে এসে পতিত হয়েছে। নদীটি প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা লন্ডনের বিখ্যাত টেমস নদীর চেয়েও বড়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই লুকানো নদীটি আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, আন্টার্কটিকার উপরিভাগে বা উন্মুক্ত অবস্থায় প্রবাহিত দীর্ঘতম নদীটির নাম হলো অনিক্স নদী। এই ৪৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবগ্লিসিয়াল নদীর ভালো এবং মন্দ—উভয় দিকই রয়েছে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর আবিষ্কার যেমন একটি বড় সাফল্য, তেমনি জলবায়ুর পরিবর্তনের নিরিখে এটি বড় বিপদের সংকেত। এই আবিষ্কারের ফলে এখন বিজ্ঞানীরা অনেক বেশি নিখুঁতভাবে হিসাব করতে পারবেন যে আন্টার্কটিকার বরফ কত দ্রুত গলছে এবং ভবিষ্যৎ জলবায়ুর পূর্বাভাস কেমন হবে। নদীটি কীভাবে বিশাল বরফের চাদরের নিচে পথ তৈরি করেছে, তা থেকে পৃথিবীর ভূত্বক এবং টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মন্দ দিক ও রয়েছে এই নদীটি আন্টার্কটিকার বরফের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণের ফলে এবং সাগরের গরম জলের সংস্পর্শে এসে ওপরের হিমবাহ বা বরফের চাদরকে ভেতর থেকে দ্রুত গলিয়ে দিচ্ছে। নদীটি ওয়েডেল সাগরে যেখানে গিয়ে মিশেছে, সেই সংযোগস্থলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি জল সাগরে পড়ার ফলে সমুদ্রের বরফ দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আন্টার্কটিকার লবণাক্ত সাগরে এই নদীর মিষ্টি জল মেশার ফলে সমুদ্রের জলের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী মহাসাগরীয় স্রোতের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার কারণ হতে পারে।