তাপস ঘোষ, ফারাক্কা : প্রবল বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনে রেললাইনে ব্যাপক ধ্বস নামল। বিভিন্ন স্টশনে আটকে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকেই চলছে জোরকদমে মেরামতির কাজ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে আচমকাই রেললাইনের একটি অংশ বসে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রী থেকে শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের দিক থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়ার পথে, ফরাক্কা ব্যারেজে প্রবেশের মুখে আপ লাইনে আচমকাই ধস নামে। বৃষ্টির জেরে মাটি নরম হয়ে সরে যাওয়ার কারণেই রেললাইনের একটি অংশ বসে গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পরই দ্রুত তৎপর হয় রেল দপ্তর। ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেললাইন মেরামতের কাজ।
রেললাইন বসে যাওয়ার জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে খবর, যোগবানি এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল-সহ একাধিক ট্রেন আটকে পড়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনগুলি বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েন বহু যাত্রী। বিভিন্ন স্টেশনগুলিতে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষায় রয়েছেন রেলযাত্রীরা। রেললাইনে ধ্বসের কারণে স্বাভাবিকভাবেই এদিন দিনভর রেল পরিষেবা ব্যহত হবে বলেই মনে করছেন রেলের আধিকারিকরা। ফরাক্কার রেল দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এদিন বহু ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের বহু পরে বিভিন্ন স্টেশনে ঢুকবে এবং সেখান থেকে ছাড়বে। দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বসে নেই রেল কর্তৃপক্ষ। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত আপ লাইনে জোরকদমে মেরামতির কাজ চলছে, অন্যদিকে বিকল্প একটি সিঙ্গেল লাইন ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ট্রেন চলচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন রেলের আধিকারিক ও কর্মীরা।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতির কাজ। দ্রুত রেললাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ করছেন রেলকর্মীরা। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের সতর্ক থাকার এবং রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রেললাইনে এই ধসকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে যাত্রী সুরক্ষার দিকে নজর রাখা হয়েছে। যাত্রীদের খাবার ও পানীয় জলে যাতে সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখছে রেল দপ্তর।