ওঙ্কার ডেস্ক: ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগ্রেবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার কিছু ভারত-বিরোধী দুষ্কৃতী হঠাৎই দূতাবাস চত্বরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ভাঙচুর চালায়। অপরদিকে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কিছু খালিস্থানী মনোভাবের দুষ্কৃতি এই হামলা চালিয়েছে।
এই ঘটনায় দূতাবাসের সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির উপর হামলার খবর পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কূটনৈতিক প্রাঙ্গণে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেই দাবী করছে নয়াদিল্লি। অতিসত্ত্বর এই হামলার নেপথ্যে কে কাদের মদত রয়েছে সে বিষয়ে সম্পুর্ণ তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
ঘটনার খবর সামনে আসতেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে একটি সরকারী বিবৃতি জাড়ি করেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস বা কূটনৈতিক ভবন কোনও দেশের সার্বভৌম মর্যাদার প্রতীক এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের দায়িত্ব। এই ধরনের অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়া দিল্লীর মতে এই হামলার নেপথ্যে সেদশের ভারত-বিরোধী কিছু খালিস্থানীপন্থী দলের হাত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার সরকারের কাছে অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাগ্রেবে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা এবং দূতাবাসের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাসও চাওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দূতাবাসে হামলা শুধুমাত্র সরকারি ভবনের ক্ষতি নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথার ওপর সরাসরি আঘাত।
ঘটনার পর থেকে দূতাবাসের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই ক্রোয়েশিয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিদেশের মাটিতে ভারতের কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা শুধু নিরাপত্তা প্রশ্নই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মহল।
