ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ২৫ এপ্রিল রাতে বহুল আলোচিত ‘হোয়াইট হাউস করোসপোন্ডেন্ট ডিনার’ চলাকালীন আচমকাই চাঞ্চল্যকর নিরাপত্তা সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও অতিথি। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এক সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকাই গুলিবর্ষণ শুরু করলে পরিস্থিতি মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সমাজ মাধ্যমে ছিড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানের মূল হলের বাইরে, যেখানে অতিথিদের প্রবেশের আগে কড়া তল্লাশি চলছিল, ঠিক সেই এলাকাতেই প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে উপস্থিত বহু মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়তে শুরু করেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীর কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং ধারালো অস্ত্র ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যারিকেডের দিকে এগিয়ে এসে গুলি চালাতে শুরু করে, যার ফলে এক নিরাপত্তা আধিকারিক গুলিবিদ্ধ হন। তবে তাঁর পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পরপরই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিকিউরিটি টিম মুহূর্তের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে চিহ্নিত করে কাবু করা হয় এবং তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সে একাই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে।
এই ঘটনায় কোনও অতিথি বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির প্রাণহানির খবর মেলেনি। যদিও মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল, তবুও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জানান, এটি একটি “সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা” হতে পারে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, তাঁদের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপই তাঁকে এবং অন্যান্য অতিথিদের নিরাপদে রাখতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি, তিনি এ ধরনের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে ঘিরে মার্কিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষত এত উচ্চস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এমন একটি ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।