ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার আবহে রাজধানী ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের দফতরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর দফতরে উত্তেজিত জনতার হামলা এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর ইউনূস ফোন করে খোজখবর নেন বলে জানা গেছে বাংলাদেশী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মারফৎ।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবাদমাধ্যমের উপর এই ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহম্মদ ইউনূস ব্যক্তিগত ভাবে দুই সংবাদপত্রের সম্পাদকদের ফোন করে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং আক্রান্ত সাংবাদিক ও কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দফতর এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং রাজনৈতিক কার্যালয়, সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। পরিস্থিতির এই অবনতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বিভিন্ন মহলে। মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বিবৃতিতে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানান। তিনি বলেন, অস্থিরতা ও হিংসা কোনও সমস্যার সমাধান নয়, বরং এতে দেশ ও সমাজ আরও পিছিয়ে পড়বে। উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক পথে মত প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
