ওঙ্কার ডেস্ক: পদ্মাপারে তরুন নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এবিষয়টিকে রাজনীতির মুল অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম সারিতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে ওসমান হাদির মৃত্যুর সঠিক এবং নিরোপেক্ষ তদন্ত করার আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন অন্তরবর্তী সরকার। এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং।
হাদির মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সংযোগ আছে এনং এই হত্যাকান্ডের পুর্ন এবং নিরোপেক্ষ তদন্ত দরকার বলে দাবি করেছে ইউনুস সরকার। ইউনুস শিবিরের মতে আওয়ামী লিগও হাদি হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জরিত। এই ঘটনার ন্যয্য তদন্তের প্রয়োজন, এই আর্জিতে চিঠি জমা দিয়েছে ইউএনের কাছে।
উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষনা হওয়ার মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তথা ইঙ্কলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়, সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে অন্তরবর্তী সরকারের সাহায্যে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। এর পরই জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। একাধিক জায়গায় অগ্নি সংযোগ, সংবাদ মাধ্যম অফিসে আগুন, রাস্তা অবরোধ, সরকারী সম্পদ ভাংচুর এমনকি সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাও সামনে আসে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের বাংলাদেশের সেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া গনঅভ্যুত্থানের সময় অন্যত্তম জনপ্রিয় মুখ ছিল ওসমান হাদী। তৈরি করেছিলেন নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইঙ্কলাব মঞ্চ’। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনো জোটে না এককভাবে নির্বাচনের মাঠে নামতে ইচ্ছুক ছিলেন হাদি।
ইঙ্কলাব মঞ্চের সুপ্রিমো প্রয়াত নেতা ওসমান হাদির রাজনৈতিক দলের মূলমন্ত্র মুলত ছিল ভারত-বিরোধ। সেখ হাসিনা এবং নয়া দিল্লির নৈকট্য নিয়ে বারংবার প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর নিজেই মাঠে নেমে রাজনৈটিক প্রচারের সময় তাঁর উপর হামলা হয়। তারপরই হাদির মৃত্যুর সঙ্গে ভারতের যোগসুত্র বের করতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল। এমনকি হাদি কে গুলি করা সেই দুই ব্যাক্তি আক্রমণ করার পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গা ঢাকা দিয়েছে একথাও জোরকদমে প্রচার করতে থাকে সেদেশের সংবাদ মাধ্যমের একাংশ। যদিও বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বা পুলিশ কতৃপক্ষ এই তথ্যের কোনো প্রমাণ পায় নি। নয়া দিল্লিও বাংলাদেশ থেকে করা সমস্ত অপবাদ অস্বীকার করেছেন।
অপরদিকে হাদির পরিবারের সদস্য এবং তাঁর দল ইঙ্কলাব মঞ্চ-এর সদস্যরা হাদির মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইউনুস সরকারকেই কাঠগোরায় দাঁড় করিয়েছিল। ওসমান হাদির ভাই ওমান হাদির মতে তাঁর দাদার মৃত্যু আসলে একটি রাষ্ট্র দ্বারা পরিকল্পিত হত্যা।
