ওঙ্কার ডেস্ক: কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ছোট্ট শহর টাম্বলার রিজ এলাকায় একটি স্কুলে বুধবার এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা। অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৮ বছরের জেসি ভ্যান রুটসেলারকে।পুলিশ সুত্রে খবর জেসি আসলে একজন রুপান্তরকামী নারী। পুলিশ তরফ থেকে জানা গিয়েছে, স্কুলে হামলা চালানোর আগে নিজের বাড়িতেই মা ও সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করে জেসি। তারপরই তার চার বছর আগের স্কুলে হামলা চালায় এবিং পরবর্তীকালে নিজে আত্মহত্যা করে বলে খবর। জেসি মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল বলেও জানানো হয় পুলিশের তরফ থেকে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে প্রথমে নিজের ৩৯ বছর বয়সী মাকে এবং ১১ বছরের সৎভাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জেসি। দুজনেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এর পর অভিযুক্ত স্থানীয় স্কুলে পৌঁছে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। স্কুল চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পড়ুয়া ও শিক্ষকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। অনেকেই শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে পড়েন। এই হামলায় স্কুলের ৯ জন পড়ুয়া এবং একজন শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ২৬ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ স্কুল হামলা হিসেবে বিবেচিত করছে পুলিশ।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুল চত্বর ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভিযুক্তের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজেই আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি লং গান এবং একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের অতীতে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা ছিল এবং একাধিক বার বাড়িতে পুলিশি ‘ওয়েলফেয়ার চেক’ করা হয়েছিল। আগেও তাঁর বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর, যদিও পরে তা ফেরত দেওয়া হয়। হামলার স্পষ্ট উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত, মানসিক ও সামাজিক নানা দিক খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার পর টাম্বলার রিজ শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে এবং গুজব ছড়ানোর থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে। কানাডায় কঠোর অস্ত্র আইন থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাই এই হামলা গোটা দেশের কাছেই গভীর ধাক্কা হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব শোকপ্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
