ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের আদেশের পর চীনের প্রতিক্রিয়া ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ের পর বিশ্বরাজনীতিতে নানা দেশ যখন উদ্বেগ, নিন্দা এবং কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দিচ্ছে, তখন বেজিংয়ের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। চীনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। বেজিং এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায় না বলে জানান তিনি। তবে এর সঙ্গে যোগ করেন, চীন সবসময়ই বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও উন্নয়ন-সহযোগী অংশীদার হিসেবে দেখে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক উন্নয়নের পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করছে।
চীনের এই অবস্থানকে বিশেষজ্ঞরা কেবল নিরপেক্ষ অবস্থান বলে ব্যাখ্যা করছেন না, বরং অনেকেই এটিকে কৌশলী রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে চীনের দীর্ঘদিনের আগ্রহ, বিশেষ করে বাংলাদেশের বন্দর, পরিকাঠামো এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বেজিং একধরনের কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে নতুন সরকার এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও চীন নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, ঐক্য ও উন্নতির কথা জোর দিয়ে জানিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ ও প্রশাসন নিজেরাই দেশ পরিচালনার ক্ষমতা রাখে, এবং বেজিং সেই প্রক্রিয়াকে সম্মান জানায়। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এ ধরনের মন্তব্য সাধারণত হস্তক্ষেপ না করার বার্তা হিসেবে ধরা হলেও, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জায়গায় চীনের স্বার্থও সমানভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মাও নিং কোনওভাবেই রায়ের ন্যায়বিচার, অভিযোগের প্রকৃতি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট মাপা, সংযত এবং নীতিগতভাবে পূর্বের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে যেকোনও দিকেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে এমন পরিস্থিতিতে চীন প্রকাশ্যে কোনও পক্ষ না নিয়ে ভবিষ্যতের সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পথই বেছে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষকদের মতে, রায়-পরবর্তী উত্তাপে বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে জটিল সময়ের মুখোমুখি হলেও চীনের বিবৃতি মূলত স্থিতাবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।
