ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমশ তীব্রতর হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এক অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে কিউবার জনগণ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, তাদের দেশের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ শুধু অন্যায়ই নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কিউবা চুপ করে বসে থাকবে না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রয়োজনে প্রাণ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত কিউবার মানুষ।
দিয়াজ-কানেল অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। এই অবরোধের ফলে দেশে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ সত্ত্বেও কিউবা নিজের স্বাধীন অবস্থান থেকে সরে আসবে না। দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা শাসন কাঠামো নিয়ে বাইরের কোনও দেশের নির্দেশ বা শর্ত মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কিউবা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে সংঘাতের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন দিয়াজ-কানেল। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঠেকাতে এবং উত্তেজনা কমাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর উপায়। যদিও সেই সংলাপ হতে হবে পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে কোনও ধরনের চাপ বা শর্তের ভিত্তিতে নয়।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে কিউবার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে সম্ভাব্য আগ্রাসনের আশঙ্কায় দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিচ্ছে। কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তেজনা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়, তবে উভয় পক্ষের কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে আরও বড় কূটনৈতিক বা সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।