ওঙ্কার ডেস্ক : রাজ্য়ে বিধানসভা ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অন্যতম কর্তা ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতার। সোমবার রাতে এই গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া X-এ তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপিকে নিশানা করেছেন। অভিষেক লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্র নয়, ভীতিপ্রদর্শন”। নির্বাচনের ঠিক আগে ইডির এধরণের তৎপরতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠল। অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না’।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’-এ চান্দেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২ এপ্রিল দিল্লিতে চান্দেলের বাসভবন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংহের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওইদিন মুম্বইয়ে আম আদমি পার্টির নেতা বিজয় নায়ারের বাড়িতেও তল্লাশি চলেছিল। সেই সূত্র ধরে এদিন চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই ভিনেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
৮ জানুয়ারি এই মামলায় আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসায় এবং তাঁর অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে ঢোকায় তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে ইডি যে মামলা দায়ের করেছিল তার শুনানি হওয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু সোমবার সেই মামলার শুনানি অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন ভিনেশের গ্রেফতারির খবরে ফের আইপ্যাক উঠে এল সংবাদ শিরনামে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার X-এর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, যখন রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ থাকা উচিত, তখন এই ধরনের পদক্ষেপ কী বার্তা দিচ্ছে? তাঁর মতে, বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করলেই গ্রেফতার হতে হবে—এমন ভয় দেখিয়ে আসলে গণতন্ত্রকে ধমক দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনের সমান সুযোগ নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ এনে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তারা শাসক শিবিরে যোগ দিলেই সুরক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। অথচ অন্যদের রাজনৈতিক স্বার্থে বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন এই সবটাই বুঝতে পারছে। নির্বাচন কমিশন হোক বা ইডি, এনআইএ এবং সিবিআই—গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চাপের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষের ভরসা উঠে যায় বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, স্পর্শকাতর সময়ে এই এজেন্সিগুলোর অতি-সক্রিয়তা আদতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা। তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন। লিখেছেন, ভয় দেখিয়ে স্বাধীনতা কেড়ে নিলে গণতন্ত্র কেবল নামেই অবশিষ্ট থাকে। তাঁর চ্যালেঞ্জ, আগামী ৪ ও ৫ মে যেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্যে থাকেন। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সব এজেন্সি দিয়েও বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর সাফ কথা, “বাংলা চাপের মুখে মাথা নত করে না, বরং লড়াই করে জবাব দেয়।”

২০২০-র নভেম্বর কয়লা চুরি মামলায় সিবিআই-এর একটি এফআইআরকে ভিত্তি করে ইডির তদন্ত শুরু করে। সেই এফআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের আশেপাশের কুনুস্টোরিয়া ও কাজোড়া এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনির সঙ্গে যুক্ত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরির কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। সেসময় পশ্চিম বর্ধমানের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড-এর তিনটি খনি সম্পর্কিত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির অভিযোগে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। ইডির দাবি, কয়লা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাক-‘ঘনিষ্ঠ’ সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করে। কয়লা চুরি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছিল বলেও ইডির তরফে দাবি করা হয়। ইডি সূত্রে আরও দাবি, ওই হাওয়ালা তহবিল যে সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাকের কাছে এসেছিল, সেই সংস্থাটি দিল্লির তথাকথিত আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত।