ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ঘটে যাওয়া দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের পর অবশেষে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল উত্তেজিত জনতার হাতে পিটিয়ে খুন করা হয় দীপু দাসকে। ঘটনার নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এমনকি এর আঁচ এপার বাংলায়ও দেখা গেছে। এই আবহে সোমবার জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা শোকাহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে যে আর্থিক ও মানসিক সংকটে তাঁরা পড়েছেন, তা প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন নিহতের স্বজনেরা। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের তরফে পঁচিশ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবারটি ভবিষ্যতে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা পায়।
উল্লেখ্য, দীপু দাস বাংলাদেশের ময়মনসিংহের স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ, ধর্মীয় অবমাননার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। মারমুখী জন্তা দীপুওকে মেরে শান্ত হয়নি। বেধরক মারার পর বিবস্ত্র করে তাঁকে ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কের একটি গাছে ঝুলিয়ে পরে তাঁর দেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেন।
ঘটনার তদন্ত করে জানা গিয়েছে দীপুকে মারার কিছু ঘন্টা আগেই তাঁকে কারখানার কাজ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। ইস্তফা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সহকর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হলে তাঁর সহকর্মীরাই বাইরে থাকা মারমুখী জনতার হাতে তুলে দেয় দীপুকে। তারপরই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা। পরে ঘটনার তদন্তে র্যা ব জানায় দীপু দাসের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের অবমাননার কোনো পোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী সংস্থা জানায় এই পুরো ঘটনা পুর্বপরিকল্পিত হতে পারে সেনিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই যে ভাবে জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দীপু কোনও ধর্মীয় অবমাননামূলক মন্তব্য করেননি। তাঁদের বক্তব্য, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজবের জেরে একটি নিরীহ প্রাণ চলে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে সহায়তা পাওয়ায় কিছুটা হলেও তাঁরা মানসিকভাবে স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
